শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের ইরানে ‘খুব কঠোর’ হামলা চালানোর হুমকি ট্রাম্পের বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ: ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩: প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সম্মানে মালদ্বীপ প্রেসিডেন্টের চা-চক্র সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী তেলের দাম বৃদ্ধি ও দুর্বল ইয়েনের প্রভাবে জাপানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের ৫ জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে ৭৭ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ শুল্ক সুবিধা পেল বাংলাদেশ

রংপুর অঞ্চলের কৃষকেরা গ্রীষ্মকালীন সবজির ফলন ও দামে খুশি

Reporter Name

রংপুর, ২০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): এই মৌসুমে নির্ধারিত চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় রংপুর কৃষি অঞ্চলের কৃষকেরা খরিফ-১ গ্রীষ্মকালীন সবজির ভালো ফলন ও লাভজনক দাম পেয়ে খুশি। এখন পুরোদমে ফসলের মাঠ থেকে সবজি তোলা চলছে।

বাজার সূত্রে জানা যায়্, এই অঞ্চলের রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলা থেকে গ্রীষ্মকালীন সবজি স্থানীয় বাজারে প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও, প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় ট্রাকযোগে পাঠানো হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি খরিফ-১ মৌসুমে রংপুর কৃষি অঞ্চলের জন্য ৩০,০৮৫ হেক্টর জমি থেকে ৫,৬৫,৭৯১ টন গ্রীষ্মকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষকরা অবশেষে এই অঞ্চলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১,০৪৫ হেক্টর বা ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ ৩১,১৩০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করেছেন, বলে জানালেন- রংপুর কৃষি অঞ্চলের ডিএই’র অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম।

ইতোমধ্যে, কৃষকরা রোববার পর্যন্ত ১৭,৩৮৫ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি সংগ্রহ করেছেন এবং হেক্টর প্রতি ১৮ দশমিক ৪৭ টনের চমৎকার গড় ফলন হারে ৩,২১,১৭৭ টন সবজি উৎপাদন করেছেন।

উৎসাহী কৃষকেরা, যারা প্রতি বছর বারবার বাম্পার ফলন ও লাভজনক বাজারমূল্য পেয়েছেন, তারা একই জমিতে বছরে দুই থেকে তিনবার সবজি চাষ করছেন এবং তাদের মধ্যে অনেকেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আবাদি জমি, বসতবাড়ি এবং নদী তীরবর্তী চর এলাকায় সবজি চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, চমৎকার ফলনের সাথে ফসল কাটা অব্যাহত থাকায় এ মৌসুমে রংপুর কৃষি অঞ্চলে খরিফ-১ মৌসুমে চাষ করা গ্রীষ্মকালীন সবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রাণিপুকুর গ্রামের কৃষক নোমান আলী ও আশরাফুল ইসলাম জানান, এ মৌসুমে তারা দুধকুশি, ঝিঙ্গা, কাকরোল, মরিচ, করলা, বেগুন, বরবটি, পটল, অফ-সিজন বাঁধাকপি এবং শাকসবজি চাষ করেছেন।

স্থানীয় সবজি বাজারের ফড়িয়া মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সেকেন্দার আলী ও আবুল কালাম জানান, তারা কৃষকদের ক্ষেত থেকে গ্রীষ্মকালীন সবজি কিনে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ লাভে পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ি ও জয়গিরহাট, সদর উপজেলার পালিচড়া এবং রংপুর সিটি মার্কেটের পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন বর্ষার কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দৈনিক সবজির সরবরাহ কিছুটা কমে যায়।

রংপুর সিটি পাইকারি বাজারের বিথি বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. দেলোয়ার হোসেন আজ বিকেলে বাসস-কে জানান, গ্রীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, তবে দাম কিছুটা বেশি।

রংপুর সিটি মার্কেট, পালিচড়া মার্কেট এবং রংপুরের শঠিবাড়ি ও পীরগাছা বাজারের খুচরা বিক্রেতারা জানান, তারা পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সবজি কিনে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ লাভে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন।

রংপুর সিটি মার্কেটের খুচরা বিক্রেতা মো. হাফিজুর রহমান এবং রংপুর শহরের কেরানীপাড়া কাঁচাবাজারের ফজলুর রহমান বলেন, গ্রীষ্মকালীন সবজির ন্যায্যমূল্য পেয়ে এবার কৃষকরা বেশ খুশি রয়েছেন।
তারা আরও বলেন, তবে- সবজির দামে ভোক্তারা সন্তুষ্ট নন।

এই স্থানীয় বাজারগুলোতে ভোক্তারা বর্তমানে আলু ২৫-৫০ টাকা কেজি, দুধকুশি ৫০ টাকা, কাকরোল ৫৫ টাকা এবং ঝিঙ্গা ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে কিনছেন।

পটল ৫০ টাকা এবং বেগুন ৬০-১০০ টাকা কেজি দরে, শসা ১০০-১৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ১৬০-২০০ টাকা কেজি দরে, মুলা ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা এবং রসুন ১৫০-২০০ টাকা কেজি দরে কিনছেন।

এছাড়াও, লম্বা লাউ প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকায়, বাঁধাকপি প্রতি কেজি ২৪০ টাকায়, কুমড়ো প্রতি কেজি ৫০ টাকায়, ধনে পাতা প্রতি কেজি ৩০০ টাকায়, সজিনা প্রতি কেজি ১২০-১৬০ টাকায়, বরবটি প্রতি কেজি ৮০ টাকায়, কচুর লতি প্রতি কেজি ৬০ টাকায় এবং ওল কচু প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা